Blog ব্লগম

হাতের কাজগুলো সারতেই সারতেই মেনকা একবার দরজার বাইরেটা উঁকি মেরে দেখে নিল। নাঃ, নারকেল গাছের ছায়া এখনও দাওয়ার কিনারা ছোঁয়নি । তার মানে হাতে আরও একটু সময় আছে। এরই মধ্যে রান্নাবান্না সব সেরে ফেলতে হবে। মেনকা ঠিক করে রেখেছে, মেয়ে বাড়ি এসে পৌঁছলে, মুখে-হাতে একটু জল দিয়ে একেবারে ভাতের পাতে বসিয়ে দেবে। চালের গুঁড়ি রয়েছে। পলতা পাতার বড়াগুলো তখনই গরম গরম ভেজে দেওয়া যাবে। আজ আর পুকুরঘাটে চান করতে যেতে হবে না। পোয়াতি মেয়ে। এতখানি রাস্তা প্রথমে নৌকা চেপে, তারপর গরুর গাড়ি করে আসছে। ক্লান্ত হয়ে যাবে তো। জামাই অবশ্য নন্দী-ভৃঙ্গী নামের দুটো লোককে সঙ্গে দিয়েছে। তারা মেয়ের যত্ন-আত্তিও করে খুব। কিন্তু তা বলে তো আর শরীরের কষ্ট যায় না।

সকালে ঘুম ভাঙতেই শিমূলের চোখে পড়ল সারা গায়ে রোদ্দুর মেখে মা সামনে দাঁড়িয়ে, পরণে লাল-পেড়ে শাড়ি, কপালে বড় টিপ, হাতে পুজোর প্রসাদি থালা। মাকে একটু অন্যরকম হলেও বেশ দেখাচ্ছে।

সেবার খুব ঠান্ডা পড়েছিল । জানুয়ারি শেষ হয়ে এলেও চার পাঁচে ঘোরাফেরা করছিল পারা । এমনই এক সকালে বড়মার শববাহী গাড়ি পাড়ার রাস্তা ছেড়ে বড় রাস্তায় পড়ল । পেছন পেছন গাড়িতে বাড়ির মেয়েরা । দূর থেকে ছোট কাকু দৌড়ে এল । হাতে একটা গামছা । ছোটকাকু ফুটবলার ছিল । অ্যালবামে জার্সি আর বুট পরা ছবি দেখেছি ।

বাড়ি থেকে যখনই কেউ কোথাও বেরতো মা বলতেন দুগ্গা দুগ্গা । যখন আমার সংসার হল--সংসার দৈর্ঘ্যে প্রস্থে বাড়ল তখন যে যখন যেখানে বেরুচ্ছে হাতের কাজ ফেলে আঁচলে হাত মুছে ফেলে কপালে দু'হাত ঠেকিয়ে বলে ফেলি দুগ্গা দুগ্গা।

কাঁচের ভিতর দিয়ে দেখি যতটা দূর চোখ যায়
স্পষ্ট স্বচ্ছ ঝকঝকে অন্ধকার কি পরিপাটী 
রাস্তা জুড়ে পড়ে আছে খোলা আকাশের নীচে

নারীমেধ যজ্ঞের শুরু
মন্ত্র পড়েন মহাগুরু
যজ্ঞে আহুতি দেবে নারী
পরণে রক্তে রাঙা শাড়ি

অন্তর্জালে এল 'সই-সাবুদ'

১৯৯৯ এর নভেম্বরে 'সই'-এর জন্মের পর থেকেই আমাদের ভাবনায় ছিল একটি পত্রিকার, যা হবে 'সই'-এর মুখপত্র। মূলতঃ নিজেদের লেখালিখি সহ 'সই'-এর টুকরো খবর নিয়ে ২০০০ সালের মাঝামাঝি পত্রিকার সেই ভাবনার প্রথম প্রকাশ - নাম দেওয়া হলো 'সই-সাবুদ'। বছরে একটি করে সংখ্যা। প্রথমদিকে শুধু 'সই' সদস্যদের লেখা নিয়েই প্রকাশিত হত। পরবর্তীতে যুক্ত হয়েছিল বিভিন্ন সময়ে 'সই'-এর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি লেখিকাদের লেখাও।বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সংখ্যাও প্রকাশিত হয়েছে। যেমন অনুবাদ সংখ্যা যা মূলতঃ ভারতের অন্যান্য ভাষার লেখিকাদের লেখা থেকে অনুবাদ করেছিলেন 'সই'-রা; প্রেম-পত্র সংখ্যা, আশাপূর্ণাদেবীকে নিয়ে বিশেষ সংখ্যা ইত্যাদি। ২০১৩-১৪র 'সইমেলা' উপলক্ষ্যে সর্বভারতীয় লেখিকাদের নিয়ে যে সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছিল সেটি ছিল ইংরেজিতে। এর দ্বিতীয় সংস্করণও বেরিয়েছে। প্রুফ দেখা, লেখা সংশোধন, প্রেসের আড্ডা নিয়ে পনেরো বছরের স্মৃতি আত্মস্থ করে এবার আমরা আমাদের 'সই-সাবুদ'-কে তুলে আনছি অন্তর্জালে। আমাদের ব্লগ, 'ব্লগব্লগম'-এর অংশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করছে 'সই-সাবুদ'। মুদ্রিত 'সই-সাবুদ'-এর বদলে বদলে এবার থেকে পথ চলা শুরু করল 'সই-সাবুদ'-এর ওয়েব সংস্করন।

'যতই উদাস হও, চাতালে ধোঁয়ার পর্দা
তপ্ত খোলার মতো দেয়ালে অসংখ্য চিড়
শহর-সাজানো কচি নৃমুণ্ডের মালা
না দেখে উপায় আছে?...' (অমিতাভ দাশগুপ্ত)

আছে,
জেগে ঘুমোলে এসব চোখে পড়েনা।কিংবা কিছু না দেখার ভান করে দিব্যি উৎসবে উল্লাসে শুধু নিজেকে নিয়ে নিজের তৈরি করা ছোট্ট বৃত্তে দিন কাটিয়ে দেওয়া যায়। ভাবা যায় এই তো দিব্যই আছি। কিন্তু সত্যিই কি তাই? আমাদের কিশোরী মেয়েটির জন্য পথের বাঁকে বাঁকে ওৎ পেতে আছে বিপদ(নর-রাক্ষস), সেকথা ভুলে থাকা যাচ্ছে কি? কিংবা আমাদের অবোধ ছেলেটির হাতে গোপনে কে তুলে দিচ্ছে আত্মঘাতী বিষবড়ি, তাকে উপেক্ষা করা কি সম্ভব ?দেওয়ালের চিড় যেদিন মাথার ওপরের ছাদটাকে গ্রাস করে নেবে, কোথায় দাঁড়াবো আমরা ?


যখন চারপাশে কান পাতলে কু-কথা আর চোখ মেললেই বীভৎসতা, আমাদের ভালো থাকতে দিচ্ছে না। ভালো নেই আমরা। কেবলই হাতে হাতে ধরা বাঁধনগুলো শিথিল হয়ে যাচ্ছে, আজন্মের চেনা মুখ, বন্ধু স্বজন অচেনা হয়ে যাচ্ছে।বন্ধনের মাঝখানে ষড়যন্ত্র করে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে ঘুণপোকা। আমরা ভালো নেই। বুকের ভেতর অহরহ এই কথাটা  শুনতে পাচ্ছি, মুখে উচ্চারণ করছি না। চেঁচিয়ে কেন বলছি না, আমরা ভালো নেই? এইযে এই ভয়ঙ্কর সময়ে আমরা বোবা ও বধিরের মতো সব দেখছি, যন্ত্রনা কে গিলে নিচ্ছি, এটা আরো ভয়ঙ্কর। এই নৈশঃব্দ আত্মঘাতী।সুকৌশলে বিষবৃক্ষের বীজ পুঁতে দেয়া হচ্ছে আমাদের মাটিতে। তারা শিকড় ছড়ানোর আগেই, মাটিকে বিষিয়ে দেওয়ার আগেই আমরা তাদের উপড়ে ফেলতে পারি না ? নাহলে আমাদের সন্ততিরা দাঁড়াবে কোথায় ?তাদের কাছে সহমর্মিতা সহনশীলতা এমনকি ঐতিহ্যের ধারণাটুকুও আর থাকবে না। আমরা তাদের দিতে পারছিনা, দিচ্ছিনা এসব বোধ। বলছি শুধু নিজেকে দেখ, নিজের টুকু রক্ষা কর। না মুখে বলছিনা কিন্তু আমাদের আচরণ তাদের শেখাচ্ছে।আমরা যারা নিজেদের অনুভূতিশীল শুভ বুদ্ধির মানুষ বলে ভাবি তারাও কি নির্বাক থেকে পরোক্ষে ওই ষড়যন্ত্রকে প্রশ্রয় দিচ্ছি না ? আবারও বলতে চাই এ নৈশঃব্দ আত্মঘাতী। এ আমাদের অস্তিত্বের সঙ্কট। যার বুকের ভেতর যা কথার বুদবুদ জমে আছে তাকে ভাষায় প্রকাশ করার এটাই সময়। বন্ধুদের অনেকের সঙ্গেই কথা বলে টের পাচ্ছি তাদের ভেতরও সেই একই ভালো না থাকার যন্ত্রনা ।

আমরা জানি এই গভীর অন্ধকারের মধ্যেও আমাদের অনেকের বুকের ভেতর মিটমিটে জোনাকির আলো, খানিকটা সুবচন, এক আঁজলা ভালোবাসা আগলে বসে আছি। তাকে এবার একসঙ্গে জড়ো করে একবার চেষ্টা করি পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য করার। কাঠবিড়ালীর সেতুবন্ধনের প্রয়াসের মতো।এই দুঃসময়ে এসো আমরা সবাই হাতে হাতে হাতশিকল বেঁধে আটকে দিই হিংস্রতা আর অসহিষ্ণুতার বিপদকে। আমাদের অস্ত্র তো ভাষা। আমরা মন খোলার জন্যে কলমের মুখ খুলি। ছোট বৃত্তে যে সব সইরা আছি, তাকে ছাড়িয়ে বৃত্তটাকে আরো বড় করতে চাই। আমাদের এই প্রতিরোধকে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন বৃত্তের বাইরের সইদের সভাবনার সঙ্গে যুক্ত করে নিতে চাই। স্বাগত তাঁদের কলমকেও।

লিখনঃ অঞ্জলি দাশ
সিরিজ গ্রাফিক্সঃ মহাশ্বেতা রায়

অনেক কথা বলে ফেলেছিলেন, অনেক কথা জমানো ছিলো বুকের মধ্যে, তাই কি গুলিটা ঠিক বুকের মাঝখানে বিদ্ধ হলো ? চারপাশের বিষবাষ্পের মাঝখানেও ওঁর ফুসফুস ভরা ছিল সুবাতাসে, তাই কি গুলিটা ঠিক ফুসফুসকে বিদ্ধ করলো ? ভাবনার স্বচ্ছতাকে গুলিয়ে দেবে বলেই কি তবে গুলিটা লক্ষ্যস্থির করলো মস্তিষ্কের দিকে ?

তিনটে গুলি, যেন একটা চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল মানবিক ভারতবর্ষের শুভবোধসম্পন্ন মানুষকে।এই মুহূর্তে তাঁরা সবাই একাত্মতা বোধ করছেন একজন মানুষের সঙ্গে।নিজেকে আইডেন্টিফাই করছেন গৌরী লঙ্কেশ বলে।‘আমিওগৌরী’-এই উচ্চারণ ছড়িয়ে পড়ছে শতমুখে।তাহলে ঘাতকের কী লাভ হলো ? একজনের জায়গায় হাজার কন্ঠ ভাসছে বাতাসে।কে হারলো তবে ? গৌরী হারেননি।তাঁর প্রতিবাদকে একটা ধারাবাহিকতার দিকে এগিয়ে দিয়ে গেছেন

Soi, as a socially conscious women writers’ organization, participates in a discussion regarding abolition of ‘triple talaq’, a system followed by Indian Muslims and not any other Islamic countries who have amended their laws to make it illegal. In India, the Uniform Civil Code came into force after independence but it could not bring muslims in its fold . The debate is  still raging on the social and political front of India. We at SOI feel that the issue is basically on women and on bringing Gender Equality.

Soi members have given their views on this topic in Bangla and English in the upcoming blog , BLOG BLOGOM, for the first time.