Silence Like a Cancer Grows / এ নৈঃশব্দ্য আত্মঘাতী

Silence Like a Cancer Grows / এ নৈঃশব্দ্য আত্মঘাতী

'যতই উদাস হও, চাতালে ধোঁয়ার পর্দা
তপ্ত খোলার মতো দেয়ালে অসংখ্য চিড়
শহর-সাজানো কচি নৃমুণ্ডের মালা
না দেখে উপায় আছে?...' (অমিতাভ দাশগুপ্ত)

আছে,
জেগে ঘুমোলে এসব চোখে পড়েনা।কিংবা কিছু না দেখার ভান করে দিব্যি উৎসবে উল্লাসে শুধু নিজেকে নিয়ে নিজের তৈরি করা ছোট্ট বৃত্তে দিন কাটিয়ে দেওয়া যায়। ভাবা যায় এই তো দিব্যই আছি। কিন্তু সত্যিই কি তাই? আমাদের কিশোরী মেয়েটির জন্য পথের বাঁকে বাঁকে ওৎ পেতে আছে বিপদ(নর-রাক্ষস), সেকথা ভুলে থাকা যাচ্ছে কি? কিংবা আমাদের অবোধ ছেলেটির হাতে গোপনে কে তুলে দিচ্ছে আত্মঘাতী বিষবড়ি, তাকে উপেক্ষা করা কি সম্ভব ?দেওয়ালের চিড় যেদিন মাথার ওপরের ছাদটাকে গ্রাস করে নেবে, কোথায় দাঁড়াবো আমরা ?


যখন চারপাশে কান পাতলে কু-কথা আর চোখ মেললেই বীভৎসতা, আমাদের ভালো থাকতে দিচ্ছে না। ভালো নেই আমরা। কেবলই হাতে হাতে ধরা বাঁধনগুলো শিথিল হয়ে যাচ্ছে, আজন্মের চেনা মুখ, বন্ধু স্বজন অচেনা হয়ে যাচ্ছে।বন্ধনের মাঝখানে ষড়যন্ত্র করে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে ঘুণপোকা। আমরা ভালো নেই। বুকের ভেতর অহরহ এই কথাটা  শুনতে পাচ্ছি, মুখে উচ্চারণ করছি না। চেঁচিয়ে কেন বলছি না, আমরা ভালো নেই? এইযে এই ভয়ঙ্কর সময়ে আমরা বোবা ও বধিরের মতো সব দেখছি, যন্ত্রনা কে গিলে নিচ্ছি, এটা আরো ভয়ঙ্কর। এই নৈশঃব্দ আত্মঘাতী।সুকৌশলে বিষবৃক্ষের বীজ পুঁতে দেয়া হচ্ছে আমাদের মাটিতে। তারা শিকড় ছড়ানোর আগেই, মাটিকে বিষিয়ে দেওয়ার আগেই আমরা তাদের উপড়ে ফেলতে পারি না ? নাহলে আমাদের সন্ততিরা দাঁড়াবে কোথায় ?তাদের কাছে সহমর্মিতা সহনশীলতা এমনকি ঐতিহ্যের ধারণাটুকুও আর থাকবে না। আমরা তাদের দিতে পারছিনা, দিচ্ছিনা এসব বোধ। বলছি শুধু নিজেকে দেখ, নিজের টুকু রক্ষা কর। না মুখে বলছিনা কিন্তু আমাদের আচরণ তাদের শেখাচ্ছে।আমরা যারা নিজেদের অনুভূতিশীল শুভ বুদ্ধির মানুষ বলে ভাবি তারাও কি নির্বাক থেকে পরোক্ষে ওই ষড়যন্ত্রকে প্রশ্রয় দিচ্ছি না ? আবারও বলতে চাই এ নৈশঃব্দ আত্মঘাতী। এ আমাদের অস্তিত্বের সঙ্কট। যার বুকের ভেতর যা কথার বুদবুদ জমে আছে তাকে ভাষায় প্রকাশ করার এটাই সময়। বন্ধুদের অনেকের সঙ্গেই কথা বলে টের পাচ্ছি তাদের ভেতরও সেই একই ভালো না থাকার যন্ত্রনা ।

আমরা জানি এই গভীর অন্ধকারের মধ্যেও আমাদের অনেকের বুকের ভেতর মিটমিটে জোনাকির আলো, খানিকটা সুবচন, এক আঁজলা ভালোবাসা আগলে বসে আছি। তাকে এবার একসঙ্গে জড়ো করে একবার চেষ্টা করি পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য করার। কাঠবিড়ালীর সেতুবন্ধনের প্রয়াসের মতো।এই দুঃসময়ে এসো আমরা সবাই হাতে হাতে হাতশিকল বেঁধে আটকে দিই হিংস্রতা আর অসহিষ্ণুতার বিপদকে। আমাদের অস্ত্র তো ভাষা। আমরা মন খোলার জন্যে কলমের মুখ খুলি। ছোট বৃত্তে যে সব সইরা আছি, তাকে ছাড়িয়ে বৃত্তটাকে আরো বড় করতে চাই। আমাদের এই প্রতিরোধকে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন বৃত্তের বাইরের সইদের সভাবনার সঙ্গে যুক্ত করে নিতে চাই। স্বাগত তাঁদের কলমকেও।

লিখনঃ অঞ্জলি দাশ
সিরিজ গ্রাফিক্সঃ মহাশ্বেতা রায়

মাঝেমাঝে একটা স্বপ্ন দেখি আমি। সবুজ মাঠে বাচ্চারা খেলছে,আর ক্লাসরুমে পড়াচ্ছেন মাষ্টারমশাই। হঠাৎ বন্দুক উঁচিয়ে এক আততায়ী ঢুকে পড়ে আমার স্বপ্নের মধ্যে। ক্লাসরুমে রক্তের গন্ধ। বমি পায় । ঘুম ভেঙে যায়।

মা, কে তুমি দাঁড়িয়ে আছো রাস্তার ধারে ? চোখে জল , উৎকণ্ঠায় নীল হয়ে আছে তোমার কন্ঠনালী, থর থর করে কাঁপছে তোমার বিবর্ণ ঠোঁট ! কী লুকোচ্ছো তুমি তোমার জীর্ণ বস্তায়? দেশ ? মান? নাকি ধর্ষণে মৃত কোন শিশুর হৃদয় ? কেন? কে দেখতে চায় এসব ? কে শুনতে চায় এ আর্তনাদ ?
তার চে দেখো, আমরা কেমন নিশ্তিন্তে হাঁটতে বেড়িয়েছি সুরম্য রাজপথে। আমাদের প্রত্যেকের গায়ে অদ্ভুত নজরকাড়া সব ভালোমানুষের পোষাক, প্রত্যেকের মুখ কেমন অমায়িক মুখোশে ঢাকা। দূরে গাছের গায় আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা “ আচ্ছে দিনের” পোষ্টার দেখে আমরা কেমন আহ্লাদে আটখানা! ঘাসে ঘাসে ,পাতায় পাতায় আমরা কেমন অবলীলায় লিখে রাখতে সাহায্য করছি হত্যা, রক্ত, সন্দেহ,দুর্নীতি আর বিকৃত কামনার ইতিহাস !

Only in time of fear is government thrown back to its primitive and sole function of self-defense and the many interests of which it is the guardian become subordinate to that.
-Jane Addams
American Social Reformer, Peace Activist
1931 Nobel Peace Prize Winner


 

সবকিছু খাপে খাপে বসে গেলে আমরা কি সহসা কখনো
গভীর মজায় ডুবে ফের ভুলে যাব সব ব্যথাবেদনাকে?
তাহলে কী লাভ হল জীবনের বিবিধ তেতোর গন্ধ পেয়ে?

This letter is being published in this newspaper on account of my death. While you are reading this, I might be enjoying a little snack in ‘heaven,’ or so they say. I sincerely have no idea what it feels like to be dead. I’m still alive while typing these words. My only request to the editor here was to publish this after my demise. ‘Escapist,’ did you just mutter under your breath? Perhaps I was so in my entire lifespan. Now I’ll try to use the past tense as much as I can, to try and grasp the unforeseen life after death.

পুরুষ, তাইতো হাজারো ছুতোয় স্পর্শ করেছ আমায়,
কখনো ভয়াল কখনও মুখোশ ছলচাতুরির মায়ায়
ফোটেনি তখনও গোলাপ পূর্ণরূপে,কুঁড়ি ছিঁড়ে নিয়ে শয্যা কার,
ভয়াবহ কোনো চিৎকারে কেঁদে ওঠে,মায়াহীন এক শূন্য বাসরঘর।

জানেন আমি আসলে একটা মানুষ।নাড়াবার লেজ নেই,উড়বার পাখা নেই, মাথার চারপাশে ছটা অর্থাৎ জ্যোতি বার হয় না , জিভে আর মননে একটাই ভাষা আছে।মানে মানুষ শুধু নয় খুব ছোট্ট কিংবা বলা যায় বৈশিষ্ট্যহীন মানুষ।আসলে জনি লিভারের ডেসক্রিপশনের মতো। চোরটা কেমন দেখতে বললে, জনি লিভার জানাচ্ছে, "উস্কে দো হাত, দো টাং , দো কান , দো আঁখে,অর এক নাখ হ্যাঁয়। একদম আদমি কি মাফিক দেখনে মে।" ঠিক এই রকম।এই রকম একটা মানুষের আবার অনেক কথা জমে যায় বুকের মধ্যে,কলমের মধ্যে।তাই লিখি।

খবরের কাগজের এই বিজ্ঞাপনটা আবার কেমন বুকের ভেতর কীসের যেন হাতছানি দিল। যে চাকরিই হোক – সরকারি কাজ তো, আমার এখন চাকরি দরকার – একটা কাজ। দিনের পর দিন আর এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।

আমরা কি সত্যিই খুব ভালো আছি? জিজ্ঞেস করলে প্রশ্নের উত্তরটা অবশ্য অবধারিতভাবেই হ্যাঁ হয়, কারণ হ্যাঁ বললেই আরও অনেক প্রশ্নের হাত থেকে রেহাই মেলে আর কিছু প্রশ্নের থেকে আমরা গা বাঁচিয়েই চলতে চাই। তাছাড়া যতক্ষণ না আমার নিজের ঘরে আগুন লাগছে, ততক্ষণ আমার কি? আমার পাশের বাড়ি পুড়ছে পুড়ুক, আমি লাইক, কমেন্টের গণ্ডীতেই নিজেকে আটকে রাখি। কিন্তু যে সমাজের ছেলেমেয়েরা ব্লু হোয়েলের মতো সর্বনাশা খেলায় আসক্ত হয়, খেলার টাস্ক কমপ্লিট করতে নিজের জীবনে দাঁড়ি টানতেও পিছ পা হয় না, সে সমাজে মানুষ ভালো থাকে কী করে?

-"কই গোওওও ! কে আচিস দরজাটা খোল দেকি ! ঘরে রাজকুমার এল আর আমাদের প্রজাদের উপহার দিতে হবে না?"

দরজায় দুমদুম করে ধাক্কা দিয়ে, হাতে চটাপট কয়েকটা তালি বাজায় রাণী। তারপর, ব্যাগ থেকে ছোটো হাত আয়নাটা বার করে সেটা মুখের সামনে ধরে। সস্তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে টকটকে লাল রঙের লিপস্টিকটা বার করে ঠোঁটে ঘষতে থাকে। চুমকি বসানো চকচকে শাড়ি, লটকান ঝোলানো ব্লাউজ, চোখে গোলাপি আইশ্যাডো, পার্ম করা কোঁকড়ানো ফলস চুল। উগ্র মেক-আপের সাথে মানানসই লিপস্টিকের শেডটা।