যে রাষ্ট্রের নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায় ধর্মীয় উন্মাদনায় স্লোগান দেয়, সেই রাষ্ট্র সংবিধান বর্ণিত 
রাষ্ট্রের সংঞ্জা কতটা মান্য করতে প্রস্তুত, প্রশ্ন জাগে। স্বাধীনতার সত্তর বছর পরও যে রাষ্ট্রে কেন্দ্র রাজ্য নির্বিশেষে জনকল্যাণ মূলক প্রকল্পকে একমাত্র পাখির চোখ না করে জাত পাত গোষ্ঠী সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবাবেগের তাস খেলে ভোট চাইবার স্পর্ধা দেখায়, সেই রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রকৃত শিক্ষা সচেতনতার বহর নিয়েও সন্দেহ জাগে। চোপ্ মিত্রো, কোন আনসান কথা হবে না। মনে আছে তো হীরক রাজার কথা? ব্রেন ওয়াস বোঝো?

আমাদের তো ধর্ম রাজ্য প্রতিষ্ঠা হয়েই গেছে। কোথাও কোন সমস্যা নেই। সবার মুখে অন্ন সবার মাথায় ছাদ সবার জন্য শিক্ষা স্বাস্থ্য কর্মসংস্হান সব শেষ করে ভগবান নিদ্রা গেছেন,থুড়ি বিশ্ব ভ্রমণে বেরিয়েছেন। এখন প্রতিবেশী দেশের সাথে একটু দড়ি টানাটানি হবে, প্রতিরক্ষা খাতে কয়েকগুণ বরাদ্দ বাড়বে, জনকল্যাণ খাতে কমালেও পাবলিক কিছু মনে করবে না, উল্টে দেশপ্রেমী হবার সস্তা বাসনায় ঝাঁপিয়ে পড়ে সমর্থন করবে, অস্ত্র বেচে নেতানিয়াহু বা ট্রাম্প সমুদ্র স্নানে গিয়ে বন্ধুত্ব বিলোবেন। দেশের বড় বিপদ হে , ব্যক্তি স্বার্থ ছেড়ে এখন একটু দেশের কথা ভাবো , ঐ যে সীমান্তে খাড়া করা আছে সাচ্চা মানুষ, এই যে এখানে গোল টেবিলে উড়ছে বিরিয়ানি, নোটবন্দী দেশে লাইন মারতে শিখে গেছে পাবলিক, হাসিমুখে , ব্যাঙ্ক থেকে এককালে রাশি রাশি খুচরো নিয়ে ঘরে ফিরেছে, এখন সেই ব্যাঙ্কই বাজার উপচে পড়া খুচরো জমা নিতে অস্বীকার করলে আমরা মেনে নিচ্ছি হাসিমুখে। সীমান্তে আর কেউ পাথর ছুঁড়বে না , সব জালনোট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, সব কালাধন দেশে ফিরেছে, সবার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গেছে প্রতিশ্রুতি মত , খুন ধর্ষণ চুরি সব বন্ধ । সবাই গোমাতার সুসন্তান , গো ময় আর গো মূত্র সেবন করে কি ভালো জ্ঞানী আর মহাপুরুষ হয়ে গেছে সব। বিজ্ঞান কংগ্রেস এ শুনলাম গনেশের মাথা প্লাস্টিক সার্জারির নমুনা, নারদের ঢেকি এরোপ্লেন। এক বিচারপতি জানালেন আমাদের জাতীয় পাখি ব্রহ্মচারী , সংগম করে না, পুরুষ পাখির চোখের জল খেলে স্ত্রী পাখির গর্ভাধান হয়। এখন আই আই টি তে পড়ানো হবে বাস্তুশাস্ত্র, উত্তর প্রদেশ এ হাসপাতাল এর আউটডোরে রোগী দেখবে জ্যোতিষী । মানতি হয়, নইলি পিছাই পড়বা নে। নইলি দেশদ্রোহী বইলবে উয়ারা। আমার রাজ্যে সাপে কাটা মেয়ে ভেসে যায় কলার মান্দাসে। তন্ত্র সাধনার নামে তিন বছরের শিশুর যৌনাঙ্গে সুঁচ ঢুকিয়ে মেরে ফেলছে শ্যামাসঙ্গীতে মরমীয়া কীর্তনীয়া সনাতন। হেতাল পারেখের হত্যাকারী এবং ধর্ষক ধনঞ্জয়ের জন্য দুঃখে কেঁদে ভাসাচ্ছে কিছু মানবতাবাদী বুদ্ধিজীবি । কয়েক জিবি বুদ্ধি মগজে পুরে বিরোধীর ঘরে ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেবার হুমকি দেওয়া দাদাকে মৃদু ধমক দেওয়াও অনুচিত মনে করছে তারা। আমি বেচারী এক পাপী মাত্র, ছাপ্পান্নর গেড়োয় আটকে আছি আপাতত। বাহাত্তুরে ধরবে কি। চান্স পেলে তো! ছত্রিশ মাসে সাত হাজার সংস্কার। চাট্টিখানি কতা নাকি! ইতিউতি উঁকি মারতি হবে নে বাপু দেখার জন্যি। ঘাড়ে ধরে দেখিয়ে দেবে বিজ্ঞাপন। এই অবধি বলেছি কি বলি নি, রুমালখানা বিপ করে মুখ চেপে ধরল। ইয়ার্কি হচ্ছে? দেশদ্রোহী কোথাকার! প্রতি তিন দিন অন্তর বন্ধুভাবাপন্ন আছোলা বংশ প্রদান করে তিনি মিত্র কুলে সুদিনের বিশ্বাস সঞ্চার করেছেন সফল ভাবে। এখানে এখন উর্দ্ধে তাকাই নিম্মে তাকাই একটিমাত্র প্রজাতির রমরমা। হ্যাভ নটস বলে কেউ কোত্থাও নেই । অধিকাংশ এটিএম থেকে দু হাজারী আর পাঁচশোর নোট ছাড়া কিছু বেরোয় না, সাধারণের জন্য ন্যূনতম জমার পরিমাণ গ্রামে তিন শহরে পাঁচ হাজার হয়ে , স্বল্প সঞ্চায়ে সুদ কমেই যায় রোজ রোজ মুদ্রাস্ফীতি কমেছে নাকি , গ্যাস কেরোসিন থেকে ভর্তুকি হাপিশ , এক কোটির ওপর জমা না থাকলে সুদ কম পাওয়া যায় ( চার্বাক দর্শন হে , খাও পিও মস্তি কর, ভবিষ্যতের সুরক্ষার জন্য আবার টাকা জমানো কেন! বেশিদিন বাঁচতে নেই হে, নওজওয়ান দের সুযোগ দিয়ে দেশ কে তাজা বানাতে হবে তো!) দেশ আগে বাড়ছে তো বটেই। আর্থিক সমৃদ্ধির পরাকাষ্ঠাই হবে এসব। দিনে পঁচিশ টাকা রোজগার করলে তাকে আর গরীব বলা হয় না। কৃষকের ভর্তুকির চেয়েও অনেক বড় ইস্যু দেশকে ডিজিটাল বানানো। কৃষকের ঋণ মকুবের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচ্ছে দিনের বিজ্ঞাপনে টাকা ঢালা। কৃষক মরে যাচ্ছে তো কি, আমেরিকা থেকে অস্ত্র আমদানি তো হবে। দেশের সুরক্ষা বলি কতা। আগে তো দেশ বাঁচবে, দেশ বাঁচলি কৃষক বাঁচবে তো, নাকি? আমাদের দেশোয়ালী রাজ্যওয়ারি কৃষকগুলো সব কেমন যেন। খালি পরকীয়া করে আর লেঙ্গি খেয়ে পটাপট আত্মহত্যা করে ।ফসলের সহায়ক মূল্য নাকি জোটে না! তেমনি দেখ দিকি চা বাগানের শ্রমিক গুলো। কাজ করার নাম নেই, রেশন চাই, মজুরি চাই, পি এফ চাই, জল চাই, ওষুধ চাই । চা বাগান বন্ধ না করে মালিক বেচারী করে কি? কান্ডজ্ঞান কি একটুও থাকতে নেই বাপু? প্রান্তিক এবং গরীবগুর্বোদের ক্ষুদ্র স্বার্থ দেখার চেয়ে , বেশি লাভজনক বড় বড় শিল্পপতিদের ঋণ মকুব। আদানি আম্বানি এরাই তো সিংহাসনের পেছনের আসলি খেলোয়াড়। এদের তোষন করলে তবে না এরা তেল দেবে উন্নয়নের রথে। যে পাগলা বোঝে না এসব তার নিশ্চয় বাপের নাম খগেন। এদিকে আমার রাজ্যও হন হন করে এগিয়ে চলেছে। সব্বাই হাসিখুসি। সব্বাই চপ তেলেভাজা শিল্পে বেকারি ঘুচিয়ে ফেলেছে। এখন খালি মেলা খেলা উৎসব হবে। সারদা আমাদের ভিত্তি, ধর্ষণ আমাদের ভবিষ্যত। চাকরি মেলে সহজে ধর্ষিতাদের বাপ দাদা চৌদ্দগুষ্টির। আর কুড়ি হাজারি মনসবদারি। মানুষের হাসপাতালে কুকুরের ডায়ালিসিস, নেতার ছেলের টুকে ডাক্তারী পাশ করার আবদার, কে কোথাকার এঁচি বেচি চোখে পেরেক ঢুকলে পাঁচ হাসপাতালের দোরে দোরে প্রাণভিক্ষা, শিক্ষায় টাকা উড়ছে, চাকরিতে ডিল, ছোটখাটো ব্যাপম, চোপ্ , সরকারকে ম্যালাইন করার বিরোধী চক্রান্ত।
এক উদ্ভ্রান্ত জমানায় বিবেক বুদ্ধি 'বিপ' করে বিপন্ন বিস্ময়ে নিরাপত্তা কিনতে চাইছি যেন। ঘাড়ের ওপর মাথাটি থাকা মানেই যে দুধেভাতে থাকা নয়, এই বোধটুকুও বন্ধক রেখেছি স্ববৃত্তে গুটিয়ে বাঁচার বাসনায়। আমার হয়ে সব কিছুই করে দেবার দ্বায়িত্ব নিয়ে রেখেছে হুজুরে আলম্ রাষ্ট্র। কি খাব কি পরব কি বলব কি ভাবব কেমন সন্তান উৎপাদন করব সবই মহামান্যের ইচ্ছাধীন। কোন ভূখন্ডে কার মৌরসীপাট্টা কোন ধর্ম সম্প্রদায় সুবিধেপ্রাপ্ত হবেন থেকে শুরু করে কে কবি বা কবি নন, কার লেখা পড়া উচিত আর কে নিষিদ্ধ, কে দেশপ্রেমী আর কে দেশদ্রোহী সব নির্ণীত হবে সেইসব তাহাদের দ্বারা। এই তাহারা আবার আমাদের মত নহেন, they are selected few, choosen people of the big boss. স্বঘোষিত উমেদার আর ফড়ে দালাল। বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়। রাজা যা বলেন পারিষদ তার শতগুণ। ধরে আনতে বললে বেঁধে আনেন। কৃপা লাভের প্রতিযোগিতা জয় করতে অতি উৎসাহে হাতে আইন তোলেন কখনও। গোমাতা রক্ষার নামে অতি আশ্চর্যজনক হত্যালীলা আবার ততোধিক আশ্চর্যজনক ভাবে সমর্থন পেয়ে যাচ্ছে একশ্রেণীর আলোকিত লোকজনের। এই সব কুকর্ম দিব্যি ছাপ্পান্ন ইঞ্চি বৈধতা লাভ করছে মিত্র জ্ঞানে । কেউ কেউ আবার পরজীবী পরান্নভোজী যোগ্যতায় প্রাপ্ত বদান্যতার প্রতিদান দিতে গিয়ে আর নিজ অযোগ্যতা ঢাকতে গিয়ে চটি চেটে বাফুন বানিয়ে ফেলছেন নিজেকে। তাদের কাছে শিক্ষা রুচি সংস্কার সকলই একদেশদর্শী। সত্য শিব সুন্দর মানুষের মৌলিক অধিকার স্বাধীনতা কর্তব্য নয়, ব্যক্তি পূজা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীস্বার্থ সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিই এদের সম্বল। জাতীয়তাবাদ নিশ্চয় ভালো জিনিস, সেটিকে হিটলারী স্টাইলে প্রয়োগ করতে গেলে গোলযোগ। ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি কে উপেক্ষা করে কেবল সংখ্যাগুরুর পছন্দের ধর্ম খাদ্য পরিধান নিয়ে যখন রাষ্ট্র মাথা ঘামায় তখন মৌলবাদ মাথাচাড়া দেয় বৈকি। রাষ্ট্রীয় মদতে সংঘটিত ছুতোয় নাতায় সংখ্যালঘু নিধন যজ্ঞে যারাই কিছুমাত্র মাত্রাজ্ঞানের পরিচয় দিয়ে সমালোচনা করেছেন বদলি প্রস্তাব এনেছেন প্রতিকার চেয়েছেন ভয়ানক পরিণতি হয়েছে। তিস্তা শেতলাবাদের কথা মনে পড়ে মিত্র? এই তালিকায় নবতম সংযোজন অমর্ত্য সেন ,পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা রা । গরু গুজরাট হিন্দুত্ব উচ্চারণ করেই সেন্সর বোর্ডের কাঁচির নীচে পড়ে যান। পরঞ্জয় 'গ্যাস ওয়ারস' লিখে প্রথমে বিষ নজরে পড়েন আম্বানিদের , পরে আর্টিকেল লেখার অপরাধে অপসারিত হন 'ইকোনমিক এন্ড পলিটিকাল উইকলি' র কলাম রাইটার হিসেবে, নেট থেকে মুছে দেওয়া হয় তার লেখা আর্টিকেলগুলি । এরপরেও শুনি , মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই কে বলে? সেই মতই তো খুব ভালো যা শাসকের মত। সেই মতে বিশ্বাসী হলে তুমি আইনের উর্দ্ধে। তুমি সেই মতের প্রচার এবং প্রসার ঘটালে সরকারী প্রসাদ লাভ নিশ্চিত। একদিকে হিন্দুত্ববাদী মৌলবাদ নিয়ে কালি খরচ করতে না করতেই এদিকে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ না করলে খুন হবেন বলে চিঠি পান মালয়ালম লেখক কে পি রামানুল্লি। এক সে বড়কর এক সব। চ্যাম্পিয়ন লোকজন । এইসব দেখেশুনে যে অবাক হয়েছে হোক, আমি একটুও অবাক নই। এমন সেন্সরশিপ তো প্রথম দেখছি না আমরা, এমন অসহিষ্ণুতাও নতুন নয়। আমরা জরুরী অবস্হা দেখেছি, নির্বাচিত সংবাদ পত্র পাঠাগারে রাখার সরকারী ফতোয়া দেখেছি, কোন চ্যানেল দেখতে হবে তার উপদেশ বা আদেশ হজম করেছি , নাটকের শো বন্ধ করে দিতে দেখেছি, খোলা রাজপথে খুন হয়ে গেছেন সফদর হাসমি, জেল খেটেছেন উৎপল দত্ত । মুক্ত চিন্তাধারার জন্য খুন হয়ে গেছেন পানেশার দাভোলকর কালবুর্গীরা । প্রতিদিন নজরদারি গ্রেপ্তারী চলছে স্যোসাল মিডিয়ায়, ভুলে যাইনি অম্বিকেশ মহাপাত্র। যারা আক্রমণ শানায় তাদের রং আলাদা আলাদা । আক্রান্ত যারা হয়, তাদের একটাই অপরাধ, তারা হ্যাঁ হ্যাঁ বলা সং নয়, তারা বিরুদ্ধ মত প্রকাশক বা সমালোচক। শাসকের কাছে মাথা বিকিয়ে না দিলেই তুমি বিপজ্জনক, একাকী, নিন্দনীয়। প্রশ্ন উঠতে পারে, মানুষের সমর্থন নিয়ে যে সরকার আসে, তার মত তো মানুষেরই মত । কিন্তু আমাদের কোন সরকারই পঞ্চাশ শতাংশের বেশি ভোট পায় না মোট ভোটারের, অর্থাৎ পঞ্চাশ শতাংশ মানুষ তো বিরুদ্ধ মত প্রকাশকও বটে । একটি সাবালক গণতন্ত্রে এই ভিন্ন মতকেও সম্মান করতে হবে তো। আমাদের দুর্ভাগ্য তা না করে আমরা তাদের গলা টিপে ধরি। বুকের ভেতর জ্বলা ধিকিধিকি আগুন তবে নেভে কিসে? স্বাধীনতার এতবছর পরও আমাদের দেশের গণতন্ত্র সাবালক হোল কই? এখানে লক্ষ্যনীয়
মৌলবাদ এর ভাষা এক, ধর্ম বদলে গেছে শুধু , স্হান কাল পাত্র এক হিসেবে ইউনিভার্সাল। মনে পড়ে "ওয়েটিং ফর গোডো" র হতভাগ্য ভ্লাদিমির আর এস্ট্রাগন কে, বেচারীরা জানে না পর্যন্ত গোডো লোকটা কে, কেমন দেখতে, কবেই বা আসবে সে , ওরা অপেক্ষা করেই যায় অন্তহীন। না মরতে পারে না বাঁচতে পারে মানুষের মত, পোজো আর লাকি যেন পুঁজিবাদী রাষ্ট্র আর তার তার পেষণে দম ঘুঁটে নিঃশব্দে মরা মানবতা। না, কোন বিদ্রোহের পূর্বাভাস কোন দিগন্তে নেই, আমরা মেনে নেওয়া অভ্যাস করছি প্রাণপণ, প্রশ্ন করা ভুলছি আনুগত্য প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় নেমে । মেরুদণ্ড খুলে রোদ্দুরে দিতে ভুলে গেছি। ফাঙ্গাস ধরে ল্যাগব্যাগ করছে বেচারী।
এই সব শাসনকর্তা আবার এক সে বড়কর এর পাল্টি বিশারদ। ভ্রষ্টাচারের বিরোধীতা করতে তারা রকমারি ভ্রষ্টের হাত ধরেন। অধুনা গণতন্ত্র তার মানে বদলাচ্ছে। এই ভারতে বাই দ্য পিপল অব দ্য পিপল ফর দ্য পিপল এর চেয়ে বড় রসিকতা আর নেই। এখানে হরদম জনমত বিক্রি হয়। বিক্রি হয় জন প্রতিনিধিও। লোভে লালচে তারা আবার মুখোশ পরে থাকে ভয়ের। ঘোড়া কেনা বেচা যারা ভালো করতে পারে তারাই সিকন্দর। নিজ ইচ্ছের মতের প্রতিফলন সত্যি কি দেখছে মানুষ, যখন নির্বাচিত প্রতিনিধি সুবিধে মত জোব্বা পাল্টে নিচ্ছে পুনরায় জনমতের তোয়াক্কা না করেই ? কত আর বলা যায় এসব নিয়ে, মশাই? কত আর রাস্তায় হাঁটা যায় রোজ রোজ ? পদে পদে এত অনাচার ভ্রষ্টাচার যে কেউ প্রতিবাদী হলে তাকে সারাক্ষণ চেঁচাতে হবে ,ঘর সংসার ফেলে পথে পথেই থাকতে হবে। তার চেয়ে নিরাপদ কিছুতেই কোন প্রতিক্রিয়া না দেখানো, কিন্তু তোমার নিজের পিঠে কেউ কখনও ঘা দেবে না , তাই বা কে বলল? তুমি সেদিন চেঁচাবে যন্ত্রনায় আর সমাজ বোবা কালা হয়ে যাবে। আমি তুমি মিলেই তো সমাজ, আমরাই সংহারক আমরাই রক্ষক । শুধু ভূমিকা বদলে বদলে যায়। টি এস এলিয়ট এই ভূমিকাহীন মানুষদের ই কি হলোম্যান বললেন? "We are the hollow men / We are the stuffed men / Leaning together / Headpiece filledwith straw " উত্তর মেলে না।

Sharmistha Ghosh

Sharmistha Ghosh , mainly a poet , essayist and short story writer was born in 1974 , teaches in a Higher Secondary school . She has three anthology of poems published till date of her own and three collection of poems with others . Writing poems is her only passion and addiction.

More posts by the author

The beliefs, views and opinions expressed in this article are those of the author and do not necessarily reflect the opinions, beliefs and viewpoints of Soi or official policies of Soi.