Soi-Sabud: September 2017 issue/সই-সাবুদঃ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সংখ্যা

হাতের কাজগুলো সারতেই সারতেই মেনকা একবার দরজার বাইরেটা উঁকি মেরে দেখে নিল। নাঃ, নারকেল গাছের ছায়া এখনও দাওয়ার কিনারা ছোঁয়নি । তার মানে হাতে আরও একটু সময় আছে। এরই মধ্যে রান্নাবান্না সব সেরে ফেলতে হবে। মেনকা ঠিক করে রেখেছে, মেয়ে বাড়ি এসে পৌঁছলে, মুখে-হাতে একটু জল দিয়ে একেবারে ভাতের পাতে বসিয়ে দেবে। চালের গুঁড়ি রয়েছে। পলতা পাতার বড়াগুলো তখনই গরম গরম ভেজে দেওয়া যাবে। আজ আর পুকুরঘাটে চান করতে যেতে হবে না। পোয়াতি মেয়ে। এতখানি রাস্তা প্রথমে নৌকা চেপে, তারপর গরুর গাড়ি করে আসছে। ক্লান্ত হয়ে যাবে তো। জামাই অবশ্য নন্দী-ভৃঙ্গী নামের দুটো লোককে সঙ্গে দিয়েছে। তারা মেয়ের যত্ন-আত্তিও করে খুব। কিন্তু তা বলে তো আর শরীরের কষ্ট যায় না।

সকালে ঘুম ভাঙতেই শিমূলের চোখে পড়ল সারা গায়ে রোদ্দুর মেখে মা সামনে দাঁড়িয়ে, পরণে লাল-পেড়ে শাড়ি, কপালে বড় টিপ, হাতে পুজোর প্রসাদি থালা। মাকে একটু অন্যরকম হলেও বেশ দেখাচ্ছে।

সেবার খুব ঠান্ডা পড়েছিল । জানুয়ারি শেষ হয়ে এলেও চার পাঁচে ঘোরাফেরা করছিল পারা । এমনই এক সকালে বড়মার শববাহী গাড়ি পাড়ার রাস্তা ছেড়ে বড় রাস্তায় পড়ল । পেছন পেছন গাড়িতে বাড়ির মেয়েরা । দূর থেকে ছোট কাকু দৌড়ে এল । হাতে একটা গামছা । ছোটকাকু ফুটবলার ছিল । অ্যালবামে জার্সি আর বুট পরা ছবি দেখেছি ।

বাড়ি থেকে যখনই কেউ কোথাও বেরতো মা বলতেন দুগ্গা দুগ্গা । যখন আমার সংসার হল--সংসার দৈর্ঘ্যে প্রস্থে বাড়ল তখন যে যখন যেখানে বেরুচ্ছে হাতের কাজ ফেলে আঁচলে হাত মুছে ফেলে কপালে দু'হাত ঠেকিয়ে বলে ফেলি দুগ্গা দুগ্গা।

কাঁচের ভিতর দিয়ে দেখি যতটা দূর চোখ যায়
স্পষ্ট স্বচ্ছ ঝকঝকে অন্ধকার কি পরিপাটী 
রাস্তা জুড়ে পড়ে আছে খোলা আকাশের নীচে

নারীমেধ যজ্ঞের শুরু
মন্ত্র পড়েন মহাগুরু
যজ্ঞে আহুতি দেবে নারী
পরণে রক্তে রাঙা শাড়ি