কাঁচের ভিতর দিয়ে দেখি যতটা দূর চোখ যায়
স্পষ্ট স্বচ্ছ ঝকঝকে অন্ধকার কি পরিপাটী
রাস্তা জুড়ে পড়ে আছে খোলা আকাশের নীচে
খানিকটা উপছে পড়েছে ফুটপাতের ছেঁড়া চাটাইয়ে
অলিগলি পেরিয়ে পাথুরে মেঝেতে চুঁইয়ে নামছে
কালো টলটলে নির্বাক অন্ধকার বন্ধ দরজার ওপারে
মধ্যরাতের বেনিয়ম তখন ভাসছে বিবর্ন সুখে
গোটা জীবন একটু একটু করে বানভাসি হয়
নিকষ কালো অন্ধকার জোয়ারের জলে

যেতে যেতে অনন্ত বৃষ্টি বলেছিল
সব ঠিক করে দেবে, রোদ উঠুক
পলেস্তরা খসা দেওয়ালে রঙ ধরবে আবার
লাল হলুদ ফিরোজা লতিয়ে উঠবে
ফিকে চাঁদের আলোয় জানলা জুড়ে,
প্রবাসী পথের বাঁকে অন্তর্দাহ শেষে
নক্ষত্রলোকের সবটুকু আলো ঝলমলিয়ে উঠবে
আকাশ ছুঁয়ে নামতে থাকবে নীলবসনা স্বপ্ন যতো
যেমনটা সে ভেবেছিল একদা

শীতঘুমে অগোছালো রৌদ্রদহনশেষে
নিষেধ পেরিয়ে এবার হাঁটতে থাকো
পথের শেষে শৈশবকাল তোমার অপেক্ষায়
অপত্য স্নেহ কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁকে বিছোনো
তোমার রেখে যাওয়া রোদ্দুর , একফালি জ্যোৎস্না
শনশন হাওয়া তোমারই আছে যেমনটা ছিল,
ফুটিফাটা ঝলসানো শরীরে এখন পদ্মগন্ধী বাতাস
নগ্ন পা জুড়ে পড়ে আছে কোজাগরী সুখ
রঙমিলন্তি খেলা শেষে পায়ে পায়ে সমুদ্রে ফেরা এখন।

Kasturi Chattopadhyay

লেখক কবি এবং গল্পকার, একসময় সাংবাদিকতা করেছেন ও সংবাদপাঠক ছিলেন। টেলিভিশনে বেশ কিছু তথ্যনির্ভর ডক্যুমেন্টরি করেছেন। ২টি কবিতা এবং২টি ছোট গল্পের বই প্রকাশিত।

More posts by the author