হাতের কাজগুলো সারতেই সারতেই মেনকা একবার দরজার বাইরেটা উঁকি মেরে দেখে নিল। নাঃ, নারকেল গাছের ছায়া এখনও দাওয়ার কিনারা ছোঁয়নি । তার মানে হাতে আরও একটু সময় আছে। এরই মধ্যে রান্নাবান্না সব সেরে ফেলতে হবে। মেনকা ঠিক করে রেখেছে, মেয়ে বাড়ি এসে পৌঁছলে, মুখে-হাতে একটু জল দিয়ে একেবারে ভাতের পাতে বসিয়ে দেবে। চালের গুঁড়ি রয়েছে। পলতা পাতার বড়াগুলো তখনই গরম গরম ভেজে দেওয়া যাবে। আজ আর পুকুরঘাটে চান করতে যেতে হবে না। পোয়াতি মেয়ে। এতখানি রাস্তা প্রথমে নৌকা চেপে, তারপর গরুর গাড়ি করে আসছে। ক্লান্ত হয়ে যাবে তো। জামাই অবশ্য নন্দী-ভৃঙ্গী নামের দুটো লোককে সঙ্গে দিয়েছে। তারা মেয়ের যত্ন-আত্তিও করে খুব। কিন্তু তা বলে তো আর শরীরের কষ্ট যায় না।

আসলে দুগগা হল মেনকা আর গিরীশের বড় আদরের একমাত্র মেয়ে। বিয়ে হয়েছে দূরের গ্রামে। একলার সংসার। জামাইয়েরও ঘর-কন্নায় তেমন মন নেই। তাই মেনকার সারাক্ষণই মনে হয়ে মেয়ের বোধহয় তেমন যত্ন হয় না। এদিকে মেয়েও আবার ভারি জেদি। বছরে একবারের বেশি বাপের বাড়ি আসতেই চায় না। এবারের কথা অবশ্য আলাদা। সন্তান হবে তো। শরীরটাও তাই তেমন ভাল নেই। দুগগা তাই রাজি হয়েছে বাপের বাড়িতে এসে থাকতে। একেবারে ছানা কোলে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফিরবে।
মেনকার তাই আনন্দের শেষ নেই। কথাটা স্থির হওয়ার পরেই বাগানের এক কোণে ঢেঁকি আর নটে শাকের চারা বসিয়েছে। গাছ থেকে লেবু তুলে নুনে জারিয়ে তুলে রেখেছে কাচের বোয়ামে। রোদে শুকিয়ে নিয়েছে পাকা তেঁতুলের ছড়া। কাঠের জ্বালে নিজের হাতে খই-মুড়ি ভেজে ভরে রেখেছে মাটির পাত্রে। কুসুম বীজ আর কাঁঠাল বীচি পোড়া দিয়ে খেতে দেবে দুর্গাকে। নারকেলের তক্তি আর তিলের নাড়ুও বানিয়ে রাখা আছে। ঘরের গরুর দুধ থেকে সর তুলে সরবাটী ঘি-ও বানিয়েছে মেনকা। এককথায় দুগগা যা যা খেতে ভালোবাসে সেই সবকিছুই খুঁটিয়ে গুছিয়ে রেখেছে সে।

আসলে দুগগা যে শুধু মেনকার খুব আদরের মেয়ে তা তো নয়। সে ভারি গুণের মেয়েও। দেখতে যেমন সুন্দর, লম্বা-চওড়া, কাঁচা হলুদের মত গায়ের রঙ, তেমনি গাছে উঠতে, সাঁতার কাটতে, দৌড়়-ঝাঁপ করতেও চিরকালই দারুণ ওস্তাদ। পাঠশালার পণ্ডিতমশাইয়ের কাছে ঝরঝরিয়ে বলত কড়াকিয়া নামতা, পড়ে ফেলত শক্ত শক্ত পুঁথি। আর সাহস ! সে শুধু মেনকা কিংবা গিরীশ নয়, গ্রাম সুদ্ধ লোক জানে দুগগার সাহসের গল্প।

সে অনেককাল আগের কথা। দুগগার বয়স তখন বড়জোড় চোদ্দ কি পনেরো। গ্রামে হঠাত্ হানা দিয়েছিল প্রকাণ্ড এক মহিষ। বিশাল কালো মেঘের মত তার চেহারা। বাঁকানো শিঙ। কুতকুতে লাল দুই চোখ। তার ভয়ে তো সবাই অস্থির। এদিকে সেই মহিষ তো ধানের ক্ষেতে নেমে ফসল খেয়ে, মাড়িয়ে সব নষ্ট করে দিচ্ছে। কিন্তু কেউ সাহস করে তাকে তাড়াতে পারছে না। শেষকালে একদিন দুগগা মস্ত একটা বর্শা নিয়ে তেড়ে গেল সেই মহিষের দিকে। মহিষও ছাড়বে কেন। সেও ছুটে এল শিঙ বাগিয়ে । কিন্তু দুগগার বর্শা তো কখনও তাক ফস্কায় না। তার ধারালো ফলা একেবারে গিয়ে বিঁধল মহিষের গলায়। তখন গ্রামের লোকের কী আনন্দ। সবাই মিলে দুগগাকে কাঁধে তুলে নাচতে নাচতে বাড়ি ফিরে এল।
পুরোনো দিনের কথা ভাবতে ভাবতে একটু বোধহয় অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিল মেনকা। এমন সময় বাইরে গিরীশের গম্ভীর গলার হাঁক শোনা গেল,

কী গো, গেলে কোথায় তুমি ? মেয়ে যে এসে পড়েছে।

শুনেই উঠি-পড়ি করে হাতের কাজ ফেলে দৌড়ল মেনকা। তেল-হলুদ মাখা আঁচলেই মেয়ের ঘামে ভেজা মুখখানি ভাল করে মুছে দিয়ে ঘরে নিয়ে গেল তাকে।

দিন সাতেক হল এসেছে দুগগা। মেনকা তার যত্ন-আত্তিতে ভারি ব্যস্ত। দুগগাও আছে ভারি ফুর্তিতে। নিত্য নতুন নানা রকম খাবারের আবদার করছে মায়ের কাছে। মেনকাও ঠিক সেটি বানিয়ে তুলে দিচ্ছেন মেয়ের পাতে। কিন্তু সেদিন সে পড়ে গেল ভারী বিপদে। ঘুম থেকে উঠে দুগগা বলে বসল,

মা, আজ আমার বড্ড কাঁচা মরিচ দেওয়া গুগলির ঝাল খেতে ইচ্ছে করছে।
শুনে তো মেনকার মাথায় হাত। তাদের পুকুরে গেঁড়ি-গুগলি অনেক আছে। কিন্তু গুগলির ঝাল কেমন করে রাঁধে সে তো তার জানা নেই। তাই মেয়ের মন ভোলাতে বলল,

ওসব আবার খাবি কেন ? তার থেকে বরং মৌরলা মাছের বাটি চচ্চড়ি করি।

কিন্তু দুগগা রাজি নয় মোটেই। তার শ্বশুরবাড়ির দেশের কবরেজমশাই বলে দিয়েছে মাঝেমধ্যে গুগলির ঝাল খেতে। তাতে নাকি ভারি পোষ্টাই। শেষপর্যন্ত মেয়ের চাপাচাপিতে সত্যি কথাটা স্বীকারই করে ফেলল মেনকা। আর তাই শুনে দুগগার কী হাসি !

ওমা, তোমাকে রাঁধতে হবে কে বলেছে ! আমি তো চিরকাল পাঠশালা থেকে ফেরার পথে আগুরি পাড়ার জয়ার সঙ্গে ওর বাড়ি গিয়ে গুগলির ঝাল খেয়ে আসতাম। ওর মা ভারী চমত্কার রাঁধে। আমি খেতে চেয়েছি শুনলে ঠিক পাঠিয়ে দেবে।

মেয়ের ইচ্ছে হয়েছে বলে কথা। মেনকা পরদিনই খবর পাঠাল আগুরি পাড়ায় জয়ার বাড়িতে। দুগগার আবদার শুনে জয়ার মা-তো হেসে-কেঁদে অস্থির। সেদিন দুপুরের আগেই ঝকঝকে মাজা কাঁসার বাটিতে গুগলির ঝাল পৌঁছে গেল মেনকার বাড়িতে। তাই দিয়ে ভারি আরাম করে ভাত খেল দুগগা।

গায়ে বেশ ভালরকম জোর থাকলেও হাত-পা কিন্তু ভারি কচি আর নরম দুগগার। মেনকা চিরদিনই সরষের খোল দিয়ে তার গা মেজে দেয়। শুকনো ধুঁধুলের খোসা ছাড়িয়ে, নরম করে, তাই দিয়ে ঘষে দেয় মেয়েরা গা-পা। কিন্তু হাট থেকে এমন একখানা গামছা কিনে এনেছে দুগগার বাপ যেটি যেমন কড়া তেমনি খরখরে। তা দিয়ে মুছতে গেলেই গা জ্বালা করছে দুগগার। চামড়ার ওপর লাল লাল দাগ পড়ে যাচ্ছে। দেখে তো চোখে জল এসে যাচ্ছে মেনকার। এদিকে হাটবার না হলে নতুন গামছা পাওয়াও যাবে না। ভারি রাগ হচ্ছে গিরীশের ওপর। রাগের মাথায় বোধহয় কথাটা বলেই ফেলেছিল পাড়া-প্রতিবেশী কাউকে। সেকথা ঘুরে-ফিরে কানে গিয়ে উঠল হিদে জোলার। সারারাত সুতো জলে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই সে বুনে ফেলল নরম তুলতুলে একখানা গামছা। তারপর সেই লাল টুকটুকে গামছাখানা হাতে নিয়ে পরদিন সকাল হতেই বাড়ির দোরগোড়ায় হাজির হয়ে হাঁক দিল,

কই গো আমাগ দুগগা মা কই ? এসে দেখে যাও কেমন গামছা বুনে এনেছি তোমার জন্য। আমি থাকতে আমাদের মেয়ের কড়া সুতোয় গা ছড়ে যাবে, তাই কখনও হয়.....

এত আদরে আছে দুগগা, এমন খুশি খুশি তার মুখখানা সারাক্ষণ, তবু বাপ গিরীশের আর কিছুতেই মন ভাল হয় না। হবে কী করে ? মেয়ে তার চিরকাল ভারী মাছের ভক্ত। ছোটবেলা ডোবা-পুকুর থেকে নিজেই গামছা ছাঁকা দিয়ে চুনো মাছ ধরে নিয়ে আসত। ছোট ছোট বাঁওড়ের জলে ছিপ ফেলে ধরত পুঁটি, ল্যাটা, ন্যাদোস। বৃষ্টির জলে চুপ্পুড় ভিজে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য মেনকা বকত মেয়েকে আবার রেঁধেও দিত সেই মাছ। আর এখন দ্যাখো, মেয়ের মুখে কোনও মাছই যেন রোচে না। গিরীশ জেলেদের কাছ থেকে ঝকঝকে মৌরলা, ঝিকিমিক কাচকি কিংবা হালকা গোলাপি আভা দেওয়া কাজরি যাই-ই কিনে আনুক না কেন, খেতে বসে দুগগা ঠিক মাছের বাটিটি ঠেলে সরিয়ে দেবে। আর অমনি মনের ভিতরটা যেন শ্রাবণের মেঘের মত আঁধার হয়ে যাবে গিরীশের।

কিন্তু সেদিন সন্ধেবেলা বাপের কোলের কাছে বসে নারকেল কোরা দিয়ে মুড়ি মাখা খাচ্ছিল দুগগা। বাইরে তখন ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টিতে চুপটি করে ভিজছে মাঠ-ঘাট। সেদিকে তাকিয়ে দুগগা হঠাত্ বলে উঠল,

বাবা গো, কদিন ধরেই আমার বড্ড ইলিশমাছের তেলভাজা আর কাঁচালঙ্কা দিয়ে ভাত খেতে ইচ্ছে করছে।

মেয়ের কথা শুনেই তো গিরীশের মনের ভিতর খুশির হাঁকডাক। দুগগা তাহলে শেষ পর্যন্ত মাছ খেতে চেয়েছে। কিন্তু আবার দুশ্চিন্তাও আছে একটু। গ্রামের পাশ দিয়ে তিরতির করে বয়ে যায় যে ছোট্ট নদী, তাতে অনেক রকম মাছ আছে ঠিকই, কিন্তু ইলিশ সেখানে মেলে না। ইলিশ পেতে হলে যেতে হবে বড় গাঙে। সে অনেকটা দূরের পথ। ভোর ভোর বেরোলে ফিরে আসতে সূয্যি পাটে নামবে। আর সেই গাঙে জলও অনেক। উথাল-পাথাল ঢেউ। তাতে নৌকা নিয়ে মাছ ধরা সবার কম্ম নয়। গিরীশ তাই পরদিনই গিয়ে হাজির হল জেলে পাড়ার মোড়ল ভবা জেলের বাড়িতে। বিশাল মোটা কালো চেহারা ভবার। চওড়া হাতের পাঞ্জা। ঠা-ঠা করে যখন হাসে, তখন যেন আকাশ-বাতাস চমকে ওঠে। গিরীশের কথা শুনে সে বলে উঠল,

চিন্তা কীসের বাবা। আমাদের দুগগা মায়ের ইলিশ খেতে সাধ হয়েছে। আমি নিজে গিয়ে গাঙের সেরা মাছটি ধরে আনব। রূপোর মত গা, আমার এই হাতের মত চওড়া সে মাছের সোয়াদ দুগগার শ্বশুরবাড়ি গিয়েও মনে থাকবে। তুমি চিন্তা কোরো না, আমি আজই ভোররাতে বেরোচ্ছি নৌকা নিয়ে।

ভবা জেলে শুধু ইলিশ মাছ ধরেই আনল না, তার জেলেনি সেই মাছ রান্না করে দিয়ে গেল মেনকাকে। দুগগা তো খেলই, তাদের পাড়া-প্রতিবেশী সকলেই সে মাছ খেয়ে ধন্য ধন্য করল।
এমনি করে গ্রামের সবার আদরে-আহ্লাদে কেটে গেল দশ মাস দশ দিন। মেনকা এবার ঠিক করল মেয়ের সাধ দেওয়া দরকার। গ্রাম সুদ্ধ লোকের নেমন্তন্ন। রান্নার আয়োজনও হরেক রকম। কিন্তু সব পদ সাজিয়ে মেয়েকে খেতে বসিয়ে মেনকার মনে পড়ল,

কী সর্বনাশ, পায়েস তো রাঁধা হয়নি। পাঁচ রকম ভাজা, পোড়া, ডালনা, মাছ, চাটনি এসব রাঁধতে গিয়ে পায়েসের কথা বেমালুম ভুলে গেছে সে। অথচ পায়েস না খেলে তো অনুষ্ঠানই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। মেয়ের অমঙ্গলের ভয়ে মেনকার চোখ যখন জলে ভরে আসছে, ঠিক সেই সময় ঘরের দাওয়া থেকে খনখনে গলায় ডাক শোনা গেল,
কই গো মেনকা কোথায় গেলি। দুগগার জন্য পায়েসের বাটিটা নিয়ে যা দিকিন.....

মেনকা দৌড়ে ঘরের বাইরে এসে দেখে খুঞ্চিপোশে ঢাকা মাটির বাটিতে সিমাইয়ের পায়েস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মাজারের বুড়ি। বয়স তার অনেক। মাজারের পাশেই ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে একলাই থাকে। দুবেলা নমাজের সময়টুকু বাদ দিলে, সারাদিনই টুকটুক করে সংসারের কাজ করে। দুপুরবেলা পাঠশালা থেকে ফেরার সময় দুগগা যখন তার রোদে দেওয়া আমসত্ব চুরি করে খেত, বুড়ি চুপটি করে ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকত দাওয়ায়। কখনও কিছুটি বলত না।

শাঁখ বাজল, প্রদীপ জ্বলল। বুড়ি নিজে হাতে পায়েস খাইয়ে দিল দুগগাকে। সবাই মিলে ভারি আমোদ-আহ্লাদে কাটল সারাটা দিন। পরদিন ঊষালগ্নে দুগগা জন্ম দিল ভারি সুন্দর ফুটফুটে এক মেয়ের। শ্বেত পদ্মের পাপড়ির মত তার গায়ের রঙ। মাথা ভরা কুচকুচে কালো চুল। খবর পেয়ে গোটা গ্রামের মানুষ এসে জড় হল গিরীশের দাওয়ায়। নাতনিকে কোলে নিয়ে গিরীশ নিজে বেরিয়ে এল সবাইকে দেখাতে। মেয়ে দেখে সবাই যখন মুগ্ধ তখন গ্রামের সবথেকে বুড়ো মানুষটি এগিয়ে এসে বললেন,

আমি আজ গ্রামের সবার হয়ে তোমার নাতনিকে আশীর্বাদ করছি গিরীশ। এ মেয়ে এমন এক শক্তির অধিকারী হবে যার সাহায্যে সে পৃথিবীর সব মানুষকে ভালো থাকতে, ভালোবাসতে, পাশে থাকতে শেখাবে। যার সাহায্যে মানুষ আনন্দ পাবে, সকলের মঙ্গল হবে।

বুড়ো মানুষটির কথা শুনে গিরীশ-মেনকা তো বটেই, গ্রামের অন্য মানুষরাও সবাই অবাক। দুগগা তো ভেবেই পাচ্ছে না তার এইটুকুনি মেয়ে কী এমন শক্তি পাবে যে এতসব বড় বড় কাজ সে করে ফেলবে। সকলে যখন ভাবছে, সাদাচুলো বুড়ো এমন একটা কথা বলল কেন, ঠিক তখনি হঠাৎ এক আশ্চর্য আলোয় ভরে গেল চারিদিক। নীল আকাশে ভেসে এল সোনার পদ্মের মত এক টুকরো মেঘ। আর তার ভিতর থেকে গম্ভীর শঙ্খনিনাদের মত কণ্ঠে শোনা গেল দৈববাণী,

হে প্রবীণ মানব। তুমি ঠিক বলেছে। তোমার আশীর্বাদ সার্থক হবে। দুর্গার এই মেয়ের নাম হবে সরস্বতী। বিদ্যার দেবী হবে এই মেয়ে। সরস্বতীই হবে এই জগতের আলোর দিশারী।>

Dipanwita Roy

Dipanwita Roy writes children's stories and has several titles to her credit. She is a contemporary writer who consciously writes on themes of environment prorection, gender equality and social justice conveyed through attractive forms of folklore, thrillers and science fiction. She always writes with children perspective in mind including young adults. She has also ventured into adult literature by writing short stories and noveletts. Dipanwita is a journalist working in television industry. She has an education in literature having done her post graduation in Comparative literature from Jadavpur University.IN 2017, she has received the Upendrakishore Award from the West Bengal Government for her contribution in Children's Literature.

More posts by the author