সন্ধেরাতে বন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখতে বেরিয়েছিল এক মেয়ে।নেকড়ের দল ধর্ষণ করে তাকে।খেলাচ্ছলে বার করে আনে তার অন্ত্র।ট্রেনে করে ফিরছিল এক কিশোর।সে নাকি গরুর ব্যাপারী, এই অপরাধে মৃত্যুদণ্ড হয় তার।সুরে সুর মেলাতে রাজি হননি যে লেখক, মুখময় কালি নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।পণ দিতে পারে নি যার বাবা, খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া যায় সেই বধূকে। আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পরীক্ষা করা যায় গর্ভস্থ ভ্রূণের লিঙ্গ।তারপর পছন্দ মত না হলেই বন্ধ করে দেওয়া যায় তার পৃথিবীর আলো দেখার রাস্তা।এমন করেই হিংসার বিষাক্ত নিঃশ্বাস প্রতি মুহূর্তে ডালপালা ছড়িয়ে দিচ্ছে আমাদের জীবন আর সমাজের অলিতে-গলিতে।ও মেয়ে আমার বাড়ির নয়।ওই কিশোরের ধর্ম আলাদা।মুখে কালিলাগা লেখককে আমি চিনি না।বাঁশের আড়ায় ঝুলছে যে দেহ তার মুখ আমি কখনও দেখিনি।বলতে বলতে আর পিছোতে পিছোতে এবার দাঁড়িয়েছি দেওয়ালে পিঠ দিয়ে।ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে নখ-দাঁতের বৃত্ত।আমারপিঠে-পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়েছে আরও অনেকে।রণসজ্জায় সজ্জিত হচ্ছি আমরা।তুলে নিচ্ছি কলম, বেঁধে নিচ্ছি তানপুরা, বোল তুলছি কথ্থকে, রঙে ডোবাচ্ছি তুলি, ভেবে নিচ্ছি সংলাপ।ক্রমশ কঠিন হচ্ছে আমাদের চোয়াল।খর হচ্ছে দৃষ্টি।শাণিত হচ্ছে অস্ত্র।প্রস্তুত হচ্ছে সৃষ্টিশীল নারী।হিংসাকে বিনষ্ট করার জন্য একমাত্র তার তূণেই তো মজুত আছে অমোঘ পাশুপত।

দীপান্বিতা রায়

তর্জনী টা কাটা পড়েছে কবে মনেও নেই
গর্জন করতে গিয়ে দেখছি শার্দূলের চামড়ায় বহুরূপী ...
হিংসার বিরুদ্ধে তো সব নারীই মনে মনে। বুক ফাটে তবু মুখ ফোটে না বহুজনার। আবার মুখ ফুটলেও অনেক সময় জায়গামত পৌঁছয় না আওয়াজ। ছদ্ম বধিরতা সর্বজনীন অসুখ বিশেষ। তাই জিহাদ কেও বাড়তি ডেসিবেল যোগ করতে হয় প্রয়োজনে । সৃজনশীলতা একটা বাড়তি মাত্রা দেয় প্রকাশ ভঙ্গিমায়। ভাষা রং ধ্বনি আকার মাত্রা আসলে খুব শৃঙ্খলায় বাঁধে আবেগ এবং দৃষ্টি কে। প্রতিবাদের আসল লক্ষ্য যদি হয় প্রতিষ্ঠান এর অচলায়তন কে নাড়া দেওয়া চরম ল্যাদকেও প্রতিক্রিয়া দিতে বাধ্য করা আপাত নিস্পৃহদের প্রতিরোধে উজ্জীবিত করা সর্বোপরি উৎসাহীদের পরিবর্তন এর দিশা দেখানো , সেটা অনেক সুষ্ঠু ভাবে করতে পারে সুুরিকল্পিত সুসংবদ্ধ রুচিশীল এবং কখনও কখনও গন হিস্টিরিয়া সৃষ্টি কারী কোন মাধ্যম। আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এখনো নারী এবং শিশুরা অনেক বেশী সফ্ট টার্গেট বিকৃত এবং ধর্ষকামী দের। তাই সৃজনশীল নারীদের এই সামাজিক দায়িত্ব বেশ বেশি করেই নিতে হচ্ছে এবং হবে।

শর্মিষ্ঠা ঘোষ


দিনভর বছরভর নানারকম ভয়াবহ হিংসাত্মক ঘটনা দেখে শুনে চুপচাপ বসে থাকা সমর্থনেরই সমার্থক !! সামান্য ক্ষমতায় কিই বা পারি করতে ! মানুষ প্রজাতির সৃষ্টির ধারাই তো অব্যাহত থাকে নারীর গর্ভধারণে --স্বভাবতই যেকোনো নারী সৃষ্টিশীল--হাতে কলম তুলি ক্যামেরা যাই হাতিয়ার হোক না কেন-আমরা ত্রিফলা ছুরি অথবা ত্রিফলা আলো হয়ে এই অন্ধকার সময়কে আঘাত ও আলোকিত দুই-ই করতে পারি । আমাদের সৃষ্টি ভবিষ্যতে হয়ে উঠতে পারে এইসময়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল । আমাদের সৃষ্টির আঘাতে সময়ের অভিমুখ সদর্থক দিকে যদি একটুখানিও বদলানো যায়--আর আমরা এই গা ছমছম সময় অনায়াসে পার হয়ে যেতে পারি নিজেদেরই সৃষ্টির আলোয় । সইরা চল --হাতে হাত ধরে গোল বড় করি –

শর্মিষ্ঠা দাস

আমরা মেয়েরা কষ্ট -যন্ত্রণাগুলো আবহমান কাল ধরে যত্ন করে তুলে রেখেছি নিজস্ব গোপন কুলুঙ্গিতে, বিছানার ভাঁজে, বইএর আলমারির পেছনে। মুখ ফুটে জানাতে পারিনি সেই সব দুঃখময় পথচলার কথা, যার বাঁকে- বাঁকে রয়ে গেছে পণের জন্য শ্বশুর- বাড়ির হাড় হিম করা অত্যাচার, কন্যা - সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য সবামীগৃহে সীমাহীন লাঞ্ছনা্‌, জীবনের উপান্ত বেলায় নিষ্ঠুর সন্তানের মাত্রাছাড়া অসম্মান ।এই সব কিছু শিরোধার্য করেও নারী চির ধৈর্যশীলা। শিক্ষা বা অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সেই ধৈর্যের সামান্যই ফাটল ধরাতে পেরেছে। এখনো বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে আর কোন অলৌকিক স্পর্শের আশায় নয়, দুঃসময়ের লৌহকপাট ভেঙে শাণিত চেতনার অমিতদ্যুতিতেই জ্বলবে নারীর সচেতনার প্রদীপ। তাই বুঝি সহস্র প্রতিবাদী কন্ঠভরা সেই প্ল্যাটফর্ম এর জন্য প্রস্তুত এবারের সইমেলা।

কৃষ্ণা রায়

সারা দেশ জুড়ে জাতি,ধর্ম, লিঙ্গের নামে যে সামাজিক ও রাজনৈতিক হিংসার বাতাবরন তৈরি হয়েছে তার বিরুদ্ধে এবারের সইমেলায় ‘সই’এর মঞ্চ থেকে প্রতিবাদে গর্জে উঠছি আমরা মেয়েরা।ছোট থেকে যে ভারতবর্ষের কথা শুনে এসেছি পূর্বসুরীদের কাছে, যে ভারতের কথা পড়েছি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে যে ভারতকে জেনেছি তাকে আমূল পাল্টে ফেলার চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে ঘৃণ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য। সৃষ্টিশীল বলেই হয়তো আমাদের সংবেদনশীল মনের যন্ত্রণা প্রকাশ না করা পর্যন্ত শান্তি নেই আমাদের, তা সে লেখা, আঁকা, মূর্তি গড়া, সঙ্গীত, নাচ যে মাধ্যমের সাহায্যেই হোক না কেন? আমাদের কথা আমরা পৌঁছে দেবই দেবো সবার কাছে। প্রশ্রয় বাক্যের বদলে দুর্বৃত্ত দের কানে ধ্বনিত হোক আমাদের প্রতিবাদ। এই আমাদের সই মেলার উদ্দেশ্য।

গার্গী রায়চৌধুরী

হিংসার কালো মেঘে যখন আকাশ বাতাস সমাচ্ছন্ন, লোভের করাল থাবা প্রতিহত করে নির্ভয়ে পথ চলার স্বাধীকার, কামাতুর নরাধমদের হিংস্রতা খর্ব করে আমাদের গর্ব, তখন গর্জে উঠুক দিকে দিকে সৃজনশীল নারীদের প্রতিবাদমুখর সৃষ্টিসকল। আমাদের এবারের(২০১৮) সইমেলা ভীষণাকারে নিনাদিত হবে শতভাবে হিংসার বিরুদ্ধে।
নারী স্বভাবজ সৃজনশীল । সৃষ্টি করাই তাদের ধর্ম । ধ্বংস করে পুরুষ । নাহ্ তারা কাপুরুষ । নারী-পুরুষের যুগলবন্দিতে গড়ে ওঠে যে মহৎ সৃষ্টি তা বিনাশ করে কাপুরুষের দল, এদের অবস্থান নারী-পুরুষের বিপরীত মেরুতে।
বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।--- এ বিশ্বাসে ফাটল ধরাবে অশুভ শক্তির হাত কি এতটাই দীর্ঘ হবে ? কখ্খনো না--নারী যে শক্তিরূপেণ সংস্থিতা। নারীশক্তি অজেয় ।

স্বপ্না বন্দ্যোপাধ্যায়

হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবী একথা ভাবতেই বড় কষ্ট বড় গ্লানি বড় আত্মজ্বলন।কিন্ত এ বাস্তব জীবন নিয়েই আমাদের চলন।নিয়ত।নারী শক্তির আধার ।সে প্রতিবাদের প্রতিমূত।তার লেখনী যদি তীব্র তবে তো তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঝলসাবেই। হবে সরব।বদলাতে না পারি হিংস্র লোলুপ বিধ্বংসী মানুষের দিকে কথার অগ্নিবাণ ছুড়ে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।
কন্ঠ নীরব হতে পারে কোনো পরিস্থিতির সাপেক্ষে ।কিন্তু লেখনী? তাকে স্তব্ধ করা যায় না।আমাদের কলমের তিরস্কারে আমরা শানিত করব আমাদের প্রতিবাদ।গৌরী লঙ্কেশদের কন্ঠ চিরকাল থাকবে উচ্চকিত।আমরা যে সই তাই তো এ নৈঃশব্দে আমরা মুখর রই।

মিতা নাগ ভট্টাচার্য

হিংসা ও সৃজন কখনও হাত ধরে চলতে পারে না।হিংসা ডেকে আনে ধ্বংস। আর ধ্বংসসস্তূপ থেকে পুনর্নির্মাণের আশা সঞ্চারিত করে সৃজন। অন্দর হোক বা বাহির,সমাজ বারবার পদদলিত করে নারীর সম্মান।ধুলোয় লুটিয়ে দেয় আব্রু।গৃহ হোক বা পথ কিংবা কর্মস্থল,নারীরজীবনের পাতায় পাতায় লাঞ্ছনার লজ্জা।পেশিবল শক্তিকল্প ছিঁড়ে খুঁড়ে শেষ করে দিতে চায় নারীশরীর,নারী-মন।কোমলমতি কুসুমবালারা হেরে যায়।বারবার।ঠিক তখনই গর্জে ওঠে মহাশ্বেতা দেবী,আশাপূর্ণা দেবী,সুচিত্রা ভট্টাচার্যের কলম।এ তরবারি সৃজন-সুখে ঝলসে উঠে খান খান করে দেয় হিংসার দর্প। মহিষাসুর দমনে দুর্গার হাতে যেমন উঠে এসেছিল ত্রিশূল,তেমনি নারীর শক্তি বাড়িয়ে তুলুক শিক্ষা।কলমের ডগায় সৃজনের ফল্গুধারায় জন্ম নিক প্রেম ও ভালবাসা।

রিনা গিরি

কেন চুপ সরে থাকি না? এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ভাবি চুপ থেকে থেকে কেটে গেছে সত্তরটি মূল্যবান বছর। দেশের স্বাধীনতার বয়স প্রৌঢ় হয়ে গেল। নারীর স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় সংগ্রাম অনাদি কাল জুড়ে জারী। তবে কি সভ্যতার ইতিহাসে মৈত্রেয়ী, হটী বিদ্যালঙ্কার, চন্দ্রাবতী, রাধারানী দেবীরা বিচ্ছিন উদাহরণ হয়েই রইবেন? পুরুষতন্ত্রের নির্যাতনের বিরুদ্ধে বারবার নারী গর্জে উঠেছে বইকি। সে প্রতিবাদে স্বকীয়তা জ্বলজ্বল করেছে দেখেছি। এখন যদি টিভির সোপ অপেরায় সিঁদুর ও বিয়ে জীবনের মূল উদ্দেশ্য কিংবা সংবাদে ধর্ষণ নারী নির্যাতন প্রধান উপজীব্য দেখি তাহলে আক্ষেপের সীমা থাকে না। লেখাপড়ায় কি লাভ হল সভ্য মানুষের তার ভেতর যদি মূল্যবোধই জাগ্রত না হল!

জয়া চৌধুরী

হিংসাত্মক কাজ সারা পৃথিবীতে আগেও হত, এখনও হচ্ছে। বরং এ যুগে নানা ধরনের হিংসাত্মক কাজ বড্ড বেশি বেড়ে চলেছে। শিশু নির্যাতন, বধূর আত্মহত্যা, নারী নির্যাতন, খুন, এসবের প্রতিবাদ করার মানুষ নেই বললেই চলে। শিক্ষিত বাবা মেয়ের বান্ধবীকে বিয়ে করে ঘরে তুলছেন। আর মা নীরবে কেঁদে চলেছে। প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই। এমন অবস্থায় মেয়েটির স্কুলের শিক্ষিকারা সেই উদ্ধত পুরুষটিকে স্কুলে ডেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। অর্থাৎ শিক্ষিকারা হিংসাত্মক কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন মাত্র। এরকম প্রায়ই দেখা যায় শিক্ষিতা সৃজনশীল নারীরা হিংসাত্মক কাজের প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এসেছেন নিঃস্বার্থ ভাবে। এর একটাই কারণ প্রতিবাদের দ্বারা এই নিত্য দ্বন্দ্ব, পৈশাচিক ক্রন্দনময় ঘটনাগুলিকে নির্মূল করে সমাজকে কলঙ্ক মুক্ত করা। এই কাজ সৃজনশীল নারীরা যদি এগিয়ে আসেন তবেই হিংসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা সম্ভব হবে। তখনই ধীরে ধীরে হিংসা মুছতে থাকবে। ছোট্ট শিশু থেকে বৃদ্ধা মা সকলেই হিংসাত্মক কাজ কর্মের মধ্যে জড়িয়ে পড়ছে। স্কুল থেকে বেরিয়ে একটি শিশু মাকে দেখে আতঙ্কে বলছে আমি মার কাছে যাব না। মা তাকে ধরে টানাটানি করছেন। শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বলে বাড়ি ফিরলেই মা আমাকে বিক্রি করে দেবে। এই অবস্থাতে শিক্ষিকারা পুলিশ ডেকে শিশু সুরক্ষা কমিটির হাতে তুলে না দিলে শিশুটি নিজের মায়ের দ্বারাই পাচার হয়ে যেত। এক্ষেত্রেও সৃজনশীল নারীরা হিংসার বিরুদ্ধে সেদিন প্রতিবাদ জানিয়ে ছিল। প্রায়ই শোনা যায় বধূর অপমৃত্যু, স্বামীর নিগ্রহ, আবার বৃদ্ধা মাকে দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে ছেলে বউরা নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাসে ট্রেনে মেয়েদের নিত্য হেনস্থা। এতদিনে শিক্ষিত মেয়েরাও সজাগ হচ্ছে। ঘুমন্ত অবস্থায় ট্রেনে কলেজ ছাত্রীরা একটু এলোমেলো অবস্থায় ছিল। কিছু যুবক তাদের ছবি তুলছিল। মেয়েরা উঠে সকলে মিলে তাদের চড়, থাপ্পড় মেরে যাত্রীদের সহায়তায় প্রতিবাদ করে এবং তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে সমর্থ হয়। সমাজের এমন হিংসা কলুষিত অবস্থাকে প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে আসছেন, লেখিকাদের সংস্থা 'সই'। সই এর সদস্যেরাও কলিযুগের এই হিংসাত্মক কাজকর্মের বিরুদ্ধে যেমন লিখছেন, তেমনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়েও বলবেন হিংসার বিরুদ্ধে সৃজনশীল নারীরা সোচ্চার হও। এবারে সইমেলার অনুষ্টানে এটাই হবে মুখ্য বিষয়। এথেকে একজনও যদি হিংসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখে তাহলেই হবে এবারের সইমেলার সার্থকতা।

কলিযুগের নানা হিংসাত্মক কাজ কর্মের বিরুদ্ধে সই-রা তাদের লেখার মধ্যে দিয়ে, নানা ধরনের সাংস্কৃতিকঅনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বলতে চেয়েছেন হিংসার বিরুদ্ধে সোচ্চার হও। তাদের বক্তব্য প্রেম, ভালবাসা, দিয়ে শিক্ষা দিতে হবে। মানুষের মধ্যেকার মনুষ্যত্বের গুণগুলো জাগিয়ে তুলতে হবে। সইমেলার অনুষ্ঠানে সৃজনশীল নারীদের সামান্য প্রতিবাদের মন্ত্রগুলো পেয়ে একজন নারীও যদি নিজেকে অন্য পথে সরিয়ে আনতে পারেন তাহলেই হয়তো অনেক নারী আত্মহত্যা থেকে বিমুখ হয়ে নতুন জীবন পাবেন। আর তখনই কবির বাণী ফলে যাবে 'কর ত্রাণ মহাপ্রাণ আন অমৃতবাণী'। এই উদ্দেশ্য মাথায় নিয়েই এই বছরের সইমেলা।

পৃথা বল