Triple Talaq/ তিন তালাক

Soi, as a socially conscious women writers’ organization, participates in a discussion regarding abolition of ‘triple talaq’, a system followed by Indian Muslims and not any other Islamic countries who have amended their laws to make it illegal. In India, the Uniform Civil Code came into force after independence but it could not bring muslims in its fold . The debate is  still raging on the social and political front of India. We at SOI feel that the issue is basically on women and on bringing Gender Equality.

Soi members have given their views on this topic in Bangla and English in the upcoming blog , BLOG BLOGOM, for the first time.

'মকবুল মাঠ থেকে বাড়ি ফিরে,কোনও দিকে না তাকিয়ে,প্রথমেই একলোটা পানি খেয়ে নিল ঢকঢক করে।তারপর চেঁচাল,"সালমা,ভাত দে,জোর খিদে পেয়েছে!"ওর বিবি এসে কাঁচুমাচু মুখে দাঁড়াল,চুপ করে।ফিরে তাকায় মকবুল,"কীরে,কানে কথা যায় না?"এবার বুলি ফোটে সালমার,"চাল কোথায় যে খেতে দেব!ঘরে তো কিছুই নাই,কাল বিকেল থেকে বলছি তোমাকে!"মাথার মধ্যে আগুন জ্বলে উঠল মকবুলের।মাঠ থেকে ফিরতে ফিরতেই ধোঁয়া-ওঠা গরম ভাতের গন্ধ আর ভাপ মনে-মনে টের পাচ্ছিল সে।এবার চিৎকার করল,"খিদের মুখে একথালা ভাত বেড়ে দিতে পারিস না,কেমন মেয়েছেলে তুই!যা,তোর সঙ্গে আর থাকব না-তালাক!তালাক!তালাক!""এ তুমি কী সর্বনাশ করলে",কান্নায় ভেঙে পড়ে সালমা।

মুসলিম নারীর আপন ভাগ্য জয় করবার অধিকার এক শ্রেণির মানুষের হাতে। একটি শব্দ তিনবার উচ্চারণে তাদের জীবন আমূল বদলায় । তখন সে ধর্মপত্নী থেকে অ-ধর্মপত্নী। মাতাল স্বামী বাড়ি ফিরে তার একপাল সন্তানের জননীকে তালাক দেয়। হোয়াটস্যাপে বিয়ের দিন দশেকের মধ্যেই স্ত্রীকে তালাক দেয় কেউ । সোশ্যালনেটে ঝড় ওঠে উত্তাল। মহিলা কমিশন তুমুল প্রশ্ন তোলে বৈধভাবে। কিন্তু তারপর?

আইন প্রণয়ন একটি চলমান প্রসেস। পরিবর্তনশীল সমাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয় আইন কে। না পারলে সেই আইন অচল। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটে না। তাদের শায়েস্তা করতে যুগ যুগ ধরে একই আইন। পড়াশুনো শিখেছ, ভালো মাইনের চাকরি করছ তো কি হয়েছে? মাথা কিনেছ নাকি। বর, ছেলেপুলে, শ্বশুরবাড়ির মন জুগিয়ে তোমায় চলতেই হবে গো। না হলে তুমি আউট। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ঘরে বাইরে চোখ রাঙ্গানি। বেশি বাড়তে যেও না। কোথাও এই কথাটা আইনের বই এ লেখা থাকে কোথাও থাকে না। এই যা তফাত।

তিন তালাক বিষয়ে কথা হচ্ছিল নবীন সহকর্মী শেখ সাইজুদ্দিনের সঙ্গে। উচ্চশিক্ষিত মুসলমান যুবকটি গভীর প্রত্যয় নিয়ে বলল, এই মধ্যযুগীয় পিতৃতান্ত্রিক প্রথাটি নিয়ে আলোচনা করাটা একালে নিতান্তই বড় হাস্যকর। সাধারণ মানুষ হিসেবে কোরাণ, হাদিশ,শরীয়ত নিয়ে যে যৎসামান্য জ্ঞান আমার রয়েছে, তা দিয়ে জীবন-যাপন সম্পর্কে ইসলাম-ধর্মের আচরণ-বিধি বিষয়ে কিঞ্চিৎ ধারণা করতে পারি। কিন্তু ধর্মের দোহাই দিয়ে অসহায় নারীকে বিবাহ বিচ্ছিন্ন করা বা অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়ার মধ্যে হাসির উৎস আসবে কেন?

হাতের কাছে মুন্নিকে পেলাম।মুন্নি বিবি। নিকার আগে ছিল মুন্নি খাতুন। আমার দৈনন্দিন গৃহকর্মের সহকারী। সকালবেলা এসে ঘরদোর সাফসুতরো করে, এঁটো বাসন ধোয়। আরও দশ বাড়ি একই কাজ করে।ছুটে ছুটে।বাড়ি ফিরতে ফিরতে তিনটে সাড়ে তিনটে।বাড়িতে ছোটো ছোটো দুই ছেলে বুড়ো শাশুড়ি আর যোয়ান স্বামী।যার শখ মদ গেলা আর নিয়ম করে বৌ-বাচ্চা পেটানো। মুন্নিকে বললাম, তালাক দিস না কেন?তালাক তালাক তালাক ।

ভারতবর্ষ ধর্ম-নিরপেক্ষ দেশ – সোজা হিসেবে মনে হয়, যে একটা দেশের ক্ষেত্রে ধর্ম-নিরপেক্ষতা মানে আলাদা করে কোন ধর্মের মানুষদের গুরুত্ব না দেওয়া, এবং ব্যাতিব্যাস্তও না করা। তাহলে সব ধর্মের মানুষদের সমান বিচার হওয়া উচিৎ! অথচ, ভারতবর্ষে ইউনিফর্ম সিভিল কোড নেই! কোন হিন্দু বা ক্রিশ্চান পুরুষ তার স্ত্রী-কে তিনবার তালাক বললেও যেখানে আইনের কিচ্ছু এসে যায় না, ইসলাম ধর্মাবলম্বী কেউ তিনবার তালাক দিলে সত্যি সত্যি ডিভোর্স হয়ে যায়! শিব ঠাকুরের আপন দেশে, আইন-কানুন সর্বনেশে!

Man is a rational animal একথা সব্বাই পাঠে পড়েছি। সবাই কি তা বিশ্বাস করি? বুদ্ধি থাকলে মানুষ পেশিশক্তি কে সর্বোত্তম ভাবে? না হলে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড তিন তালাক ও বহুগমন সম্পর্কিত আইন বদলানোর আপত্তির কারণ হিসাবে যে যুক্তি গুলো দিচ্ছে তার শুরু কথাটি হল “Male is stronger and female weaker sex, Man is not dependent on woman for his protection. On the contrary, she needs him for her defence” তাদের বক্তব্যগুলি সংক্ষেপে এরকমঃ ১) বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে স্বামীরা স্ত্রীদের খুন বা পুড়িয়ে ফেলতে পারে অধৈর্য হয়ে।

তিন তালাক যে বিশেষ সম্প্রদায় এর নারী বিদ্বেষী একটি কুতসিৎ রূপ তাতে সন্দেহ নেই।তিনবার তালাক উচ্চারণ করে নারীকে অস্বীকার করা আসলে অস্বীকার করা বিবাহ ব্যবস্থাকে।বিবাহের পেছনে কিন্ত থাকে সামাজিক অনুমোদন এবংআইন এর অনুমোদন।